
জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় যখন দেশের কৃষিখাত বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই পঞ্চগড়ে আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে মরিচ চাষে নতুন সম্ভাবনার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। উৎপাদন খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় জেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব এই চাষ পদ্ধতি।
কৃষিবিদরা জানান, মালচিং মূলত অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বেড তৈরি করে তা বিশেষ এক ধরনের প্লাস্টিক পেপার দিয়ে ঢেকে চাষ করার পদ্ধতি। এর মূল উদ্দেশ্য সূর্যের আলো ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করে মাটিকে ফসলের উপযোগী রাখা। মালচিং পেপারের কালো রঙের দিকটা নিচে এবং রুপালি রঙের দিকটা ওপরের দিকে থাকে। নির্দিষ্ট দূরত্বে পেপার কেটে সেখানে চারা রোপণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে জমিতে আগাছা হয় না, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকে এবং সেচ লাগে নামমাত্র। ফলে প্রথাগত চাষের তুলনায় উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যায়।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শীত ও বর্ষা মৌসুমে এই পদ্ধতি দারুণ কার্যকর। শুরুতে বেড তৈরি ও মালচিং পেপার কিনতে কিছুটা খরচ বেশি হলেও, পরবর্তীতে সার বা নিড়ানির বাড়তি ঝামেলা ও খরচ থাকে না। গাছও দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে ফলন দেয়। প্রতি বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে মরিচ চাষে খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা, আর উৎপাদিত মরিচ বাজারে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব।
পঞ্চগড় জেলা সদরের চানপাড়া গ্রামের সফল ব্যবসায়ী ও কৃষক সারোয়ার হোসেন এবার তালমা নদীর পাড়ে পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করেছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ক্ষেতে ফুল এসেছে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই পদ্ধতিতে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় পাঁচ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। বিশেষ করে খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমে বৃষ্টিপাতের কারণে নিচু এলাকার মরিচ গাছ মরে যাওয়ায় বাজারে এই মরিচের দাম বেশ ভালো থাকে। কৃষকদের ভাগ্যবদল ও কৃষি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কৃষি বিভাগ থেকে এই আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :