মুক্ত স্বদেশ মাদক কারবারিদের গেইটে বেঁধে রাখল মুক্তাগাছাবাসী | মুক্ত স্বদেশ

মাদক কারবারিদের গেইটে বেঁধে রাখল মুক্তাগাছাবাসী


নিউজ ডেস্ক জুলাই ২৬, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ন
মাদক কারবারিদের গেইটে বেঁধে রাখল মুক্তাগাছাবাসী

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌরসভায় স্থানীয় মাদকবিরোধী কমিটির রাতভর অভিযানে ১০ জন মাদকসেবী ও কারবারিকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে পাঠায়।

শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাতে পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আটককৃতদের মাদকবিরোধী কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলামের বাড়ির প্রধান ফটকের (গেইট) সাথে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণ চন্দ্র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে অপরাধের ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলে আসছিল। সামাজিক এ ব্যাধি প্রতিরোধে গঠিত স্থানীয় মাদকবিরোধী কমিটি দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি রেখে শনিবার রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের ধরে ফেলে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, “মাদক সমাজের জন্য এক ভয়াবহ ব্যাধি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় জনগণের সহায়তায় এ অভিযান সফল হয়েছে। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাটির বিষয়ে মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জাকির হোসেন বাবলু জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নেই। জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাদকবিরোধী কোনো অভিযানে শিথিলতা সহ্য করা হবে না।”

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও সমাজকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয়দের এ সাহসী উদ্যোগ ও প্রশাসনিক শাস্তিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক মহল।