মুক্ত স্বদেশ নীলফামারী-১ আসনে জোট ও ভোটে তুহিন নাকি আফেন্দী | মুক্ত স্বদেশ

নীলফামারী-১ আসনে জোট ও ভোটে তুহিন নাকি আফেন্দী


নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ৫:৩২ অপরাহ্ন
নীলফামারী-১ আসনে জোট ও ভোটে তুহিন নাকি আফেন্দী

ডোমার-ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-১ আসন। এই আসনে বিএনপি জামায়াত ও জমিয়তের হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় দলের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ আসন বলে বিবেচিত তেমনি স্থানীয় ভোটারদের কাছেও।

বিএনপির দুই ধাপে প্রার্থীতা ঘোষনায় এ আসনে দলীয় কোন প্রার্থী দেয় নি। আসনটিতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আপন ভাগিনা প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। জিয়া পরিবারের সদস্য হওয়ায় বিএনপিতে পারিবারিকভাবে তুহিনের রয়েছে আলাদা প্রভাব। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপির অভিভাবক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোটা নীলফামারী বিএনপির।

অপরদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের দলীয় প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তিনি দলটির মহাসচিব হওয়ায় দলের হেভিওয়েট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন এ আসনে প্রচারণার পাশাপাশি এলাকার গরীব ও অসহায় মানুষদের বিপদে পাশে দাড়ানো এবং বেকার যুবকদের নিয়ে কর্মসংস্থান তৈরীর অগ্রনী ভুমিকা পালন করে আসছেন। এছাড়াও অসুস্থ্য মানুষের সেবা দিতে নিচ্ছেন বিভিন্ন পদক্ষেপ। তিনি সকল পেশার সকল দলের মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা শুনছেন আস্তরিকভাবে তা শুনে পাশেও দাড়াচ্ছেন। ফলে সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি রয়েছেন স্থানীয় ভোটারদের পছন্দের তালিকায়। তুহিন এ আসনের সন্তান হওয়ায় তার রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক।

অন্যদিকে জমিয়তের ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। দলীয় মহাসচিব হিসেবে তার অবস্থান যেমন শক্তিশালী তেমনি স্থানীয় পর্যায়েও। ডোমার উপজেলায় জন্মগ্রহন করায় তারও আছে বিশাল ভোট ব্যাংক। এছাড়াও তিনি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বিবেচিত। দ্বির্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছেন। মহামারী করোনা থেকে শুরু করে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। ধর্মীয় যে কোন উৎসবে তার সবর উপস্থিতি পরিলক্ষিত। এছাড়াও তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তিনিও রয়েছেন স্থানীয় ভোটারদের পছন্দের তালিকায়।

তবে এই দুই দলের জোট হলে সেই সমিকরণ পাল্টে দিবে এলাকার ভোটের চিত্রও। সে ক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থী তুহিন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে হলেও জমিয়তের মহাসচিব হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান জমিয়তের একাধিক সুত্র।

জোট হলে প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে জটিল সমিকরণের সৃষ্টি হলেও আজ বা কালকের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে। দুই দলের নিজ নিজ নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা তাদের প্রার্থীই পাচ্ছেন জোটের মনোনয়ন।

আফেন্দী জোটের মনোনয়ন পেলে লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুছ ছাত্তারের সাথে। ইতিমধ্যে তারাও নির্বিঘ্নে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার শুরু করেছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সভা-সমাবেশ, ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ, ঘরোয়া বৈঠকসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা। দ্বির্ঘদিন ধরে এ আসনে শক্তিশালী অবস্থানে আছে দলটি।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির সাথে জমিয়তের জোট না হলে বিএনপি -জামায়াত -জমিয়তের মধ্যে ভোটের মাঠে লড়াই হবে ত্রিমুখি। আর যদি জোট হয় তাহলে লড়াই হবে জমিয়ত-জামাতের। সে ক্ষেত্রে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের হতাশ হতে হবে।

 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আজ। সন্ধ্যা ছয়টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।