
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার আমের বেশ ভালো ফলন হলেও ঢলন প্রথাসহ নানামুখী চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এতে তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢলন প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও আড়তদারদের দাবি, সমঝোতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত আম নেওয়া হচ্ছে। তবে চাষিরা বলছেন, তাঁদের জিম্মি করেই এই ঢলন দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
দেশের সর্ববৃহৎ আম বাজার কানসাটে এখন বিভিন্ন জেলার আম আসায় সরবরাহ প্রচুর, কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম অনেক কমে গেছে। চাষিদের অভিযোগ, গত বছরের চেয়ে এবার আমের দাম প্রায় অর্ধেক। তার ওপর প্রতি মণে ৪০ কেজির বদলে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত আম বেশি নেওয়া হচ্ছে। রাজশাহীতে ৪-৫ কেজি বা নওগাঁয় ৮ কেজি নেওয়া হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০-১৫ কেজি পর্যন্ত ঢলন নিচ্ছেন ফরিয়ারা। এর পাশাপাশি এবার শতকরা ২৫ ভাগ বেশি খাজনা দিতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তিনবার পর্যন্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে বাজারে গোপালভোগ ১,৩০০ থেকে ২,০০০ টাকা, লক্ষণভোগ ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং ক্ষীরসাপাত ১,৯০০ থেকে ৩,৪০০ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে।
কানসাটের আম বিক্রেতা ও চাষিদের মতে, গত ১০ বছর ধরে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে মণপ্রতি ওজনের পরিমাণ ৪২ কেজি থেকে বাড়তে বাড়তে এখন ৫৮-৬০ কেজিতে ঠেকেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম মূল্যে বাজার লিজ নিয়ে ইজারাদাররা অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন, এমনকি খালি ক্যারেট ও কুরিয়ার বুকিংয়ের সময়ও খাজনা দিতে হচ্ছে। তবে কানসাট আম বাজারের ইজারাদার মো. আলমগীর জুয়েল অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কানসাট আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু জানান, সারা দেশে এক ওজন নীতি থাকলে তাঁরা স্বাগত জানাবেন। তবে আম পচনশীল হওয়ায় ভরা মৌসুমে ওজন নিয়ে আন্দোলনের কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম জানান, সরকারি রেট মেনেই খাজনা আদায় হচ্ছে। তিনবার খাজনা নেওয়া বা ঢলন প্রথার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হলেও কৃষকরা লোকসানে পড়বেন না। আমের রপ্তানি ও বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে পারলে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন :