
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গণপিটুনিতে মোহাম্মদ নুর ইসলাম ইরান নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তার ও তার সহযোগীদের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৩০টি ঘর, ৩টি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভস্মীভূত হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ইরান এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি ছিলেন। গত সোমবার মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় নাঈম উদ্দিন (১৬) ও ইমরান হোসেন (১৭) নামে দুই কিশোরের ওপর হামলা চালায় ইরান ও তার বাহিনী। টাকা দিয়ে ইমরান ছাড়া পেলেও নাঈমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাতে নাঈমের মৃত্যু হয়।
নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠে, নাঈমের জানাজার পর তার পরিবারকে হুমকি দেয় ইরান এবং বাজি ফুটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে। পরে গভীর রাতে স্থানীয়রা ইরানকে দেখতে পেয়ে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ইরানের মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ জনতা তার ও সহযোগীদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ইরানের নিজের ছেলেও বাবার অপরাধের কথা স্বীকার করে বলেন, তার বাবা অপরাধী ছিল এবং নাঈম হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, কিন্তু তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, নিহত নুর ইসলাম ইরানের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। কিশোর নাঈমের মৃত্যুর পর উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
আপনার মতামত লিখুন :