মুক্ত স্বদেশ নীলফামারী-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জমিয়তের বড় বাধা ‘স্বতন্ত্ররা’ | মুক্ত স্বদেশ

নীলফামারী-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জমিয়তের বড় বাধা ‘স্বতন্ত্ররা’


নিউজ ডেস্ক জানুয়ারী ১৮, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ন
নীলফামারী-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জমিয়তের বড় বাধা ‘স্বতন্ত্ররা’

কাওছার আল হাবীব (ঢাকা): নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি।

নীলফামারী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, সিলেট-৫ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এই আসনগুলো জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে বিএনপি জোট ছেড়ে দিলেও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ছাড় দিতে নারাজ। তারা জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র হয়ে প্রচারণায় নেমেছে কমর বেঁধে।

উত্তরের জেলা নীলফামারী-১ আসন গঠিত ডোমার-ডিমলা উপজেলাকে নিয়ে । এ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীকে। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগিনা প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন এ আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রায়ই ক্ষুদ্ধ ছিলো। ফলে আফেন্দী জোটের প্রার্থী হলেও তার পাশে ছিলো না স্থানীয় বিএনপি। তবে তারা অপেক্ষায় ছিলো দলীয় নেতার নির্দেশনার ।

প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন পরবর্তীতে নীলফামারী-২ আসনে মনোনয়ন পেলে জমিয়তের প্রার্থীর পাশে বিএনপি থাকবে বলে অনেকের ধারণা ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন শাহরিন ইসলাম তুহিনের বাবা ও বেগম খালেদা জিয়ার ভগ্নিপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।

তিনি মনোনয়ন ফিরে পাওয়ায় সমিকরণ প্রায় জটিল হয়ে গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনার ঝড়। বিএনপির ভোট জোটে না কি ব্যক্তিতে যাবে এ নিয়ে সাধারণ ভোটার পরেছে দিধায়।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সুমন বলেন, আমরা বিএনপি করি, দলের জন্য জেল খেটেছি, নির্যাতিত হয়েছি অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার জন্য নয়।

তবে জমিয়তের একাধিক নেতা মনে করছেন শেষপর্যন্ত তারেক রহমানের নির্দেশনায় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা জোটের প্রার্থীকে জয়ী করতে পাশে থাকবেন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনেও ভালো নেই বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। এ আসনে দলীয় প্রতীক না পেলেও সতন্ত্র প্রার্থী হয়েই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রুমিন ফারহানা। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি ২০১৫ সাল থেকে এই আসনে বিএনপির হয়ে কাজ করছি। এখানকার মানুষের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নীলফামারী-১ আসনে খালেদা জিয়ার ভগ্নিপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে জমিয়তের প্রার্থীর হার নিশ্চিত । ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেও রুমিন ফারহানা নির্বাচনের মাঠে থাকলে এর প্রভাব পরবে জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব এর উপর।

জমিয়তের প্রার্থীরা খেজুর গাছ মার্কায় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর স্বতন্ত্ররা করবেন তাদের পছন্দের প্রতিকে।