মুক্ত স্বদেশ ১০ বছর ভাতা পাওয়ার পর কার্ড উধাও! বিপাকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা | মুক্ত স্বদেশ

১০ বছর ভাতা পাওয়ার পর কার্ড উধাও! বিপাকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা


নিউজ ডেস্ক জুলাই ২৬, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ন
১০ বছর ভাতা পাওয়ার পর কার্ড উধাও! বিপাকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক অসহায় বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতার কার্ড নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের কারণে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি ভাতা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রয়েছেন ৮০ বছর বয়সী সাহেরা বেগম।

ভুক্তভোগী সাহেরা বেগম উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুঞ্জর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। স্বামী ও কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটি জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ায় পরিবার থেকেও কোনো আর্থিক সহায়তা পান না এই বৃদ্ধা।

সাহেরা বেগম জানান, ২০১০ সালে তৎকালীন ইউপি সদস্য রঞ্জু মেম্বার তাঁর নামে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেন। এরপর থেকে টানা ১০ বছর নিয়মিত ভাতা পেয়ে আসছিলেন তিনি। তবে ২০২০ সালে নতুন ইউপি সদস্য হিসেবে জাহাঙ্গীর মেম্বার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই হঠাৎ করে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাহেরা বেগম বলেন, “জাহাঙ্গীর মেম্বার আমার ভাতার কার্ডটি নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আমি আর কোনো টাকা পাইনি। কার্ডের জন্য তাঁর কাছে বহুবার ধরণা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃদ্ধার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁর ভাতার কার্ডটি আত্মসাৎ বা আটকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “জাহাঙ্গীর মেম্বার যে সাহেরা বেগমের ভাতার কার্ডটি নিয়েছেন—এ তথ্যটি সঠিক। তবে কার্ডটি নিয়ে তিনি কী করেছেন, তা আমার জানা নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বিদেশে অবস্থান করায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মুরাদনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে সাহেরা বেগমের নামে বর্তমানে কোনো সক্রিয় বয়স্ক ভাতার কার্ডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাঁর ধারণা, ২০২০ সালে ভাতা ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল বা অনলাইনে রূপান্তরের সময় হয়তো কার্ডটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা থেকে এই জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

এই বয়সে মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সাহেরা বেগমকে পুনরায় বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।