মুক্ত স্বদেশ দৌলতপুরে সংযুক্ত জমজ কন্যার জন্ম, বাঁচানোর আকুতি দিনমজুর বাবার | মুক্ত স্বদেশ

দৌলতপুরে সংযুক্ত জমজ কন্যার জন্ম, বাঁচানোর আকুতি দিনমজুর বাবার


নিউজ ডেস্ক জুলাই ২৮, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ন
দৌলতপুরে সংযুক্ত জমজ কন্যার জন্ম, বাঁচানোর আকুতি দিনমজুর বাবার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক দেহে দুই প্রাণের ফুটফুটে এক জোড়া জোড়া লাগা (সংযুক্ত) জমজ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মের পর যেকোনো পরিবারে আনন্দের জোয়ার ভাসার কথা থাকলেও, এই বিরল ঘটনার পর থেকে দিনমজুর এক দম্পতির ঘরে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। শিশু দুটি জন্মের পর থেকেই একে অপরের বুকের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের বাঁচাতে মা-বাবার চোখে এখন শুধুই অশ্রু আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্ক। অন্যদিকে এই বিরল শিশু দেখতে প্রতিদিন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

ঘটনাটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের। দিনমজুর নাহিদ হোসেন ও তার স্ত্রী মুক্তা খাতুনের অভাব-অনটনের সংসারে এখন নির্মম বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে আকাশসম অর্থসংকট। জন্মের পর যখন চিকিৎসকরা জানালেন শিশু দুটি সংযুক্ত জমজ, তখন লোকলজ্জার ভয় ও গভীর কষ্ট বুকের ভেতর চেপে কয়েক মাস সন্তান দুটিকে আড়ালে আগলে রেখেছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু অভাবের সংসারে চিকিৎসা আর বাড়তি খাবার খরচ চালাতে গিয়ে এখন আর গোপন রাখা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পর্যাপ্ত টাকার অভাবে বন্ধ রয়েছে তাদের মৌলিক চিকিৎসা ও ওষুধপত্র।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আধুনিক চিকিৎসা ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। তবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী। যে পরিবারে দিন এনে দিন খেতে হয়, কখনো কখনো একবেলার খাবার জুটলেও অন্যবেলায় না খেয়ে থাকতে হয়—সেখানে কয়েক লাখ টাকার এই চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

স্থানীয় চেয়ারম্যান পরিবারটির চরম অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

যাদের সন্তান যায় তারাই কেবল বোঝে হারানোর বেদনা। নিজের প্রিয় দুই সন্তানকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে দেখার আশায় বুক বেঁধে আছেন অসহায় এই মা-বাবা। সমাজের কোনো সহৃদয় ও দয়ালু মানুষের সহযোগিতায় হয়তো তাদের কোলজুড়ে সুস্থ হয়ে উঠবে ফুটফুটে দুই শিশুকন্যা—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সবাই।