
গ্রীষ্ম ও বর্ষার সন্ধিক্ষণে প্রকৃতিতে এখন মৌসুমী ফলের সমারোহ। আম ও কাঁঠালের মৌসুম যখন শেষের দিকে, ঠিক তখনই মাগুরার স্থানীয় বাজারগুলোতে দৃষ্টি কাড়ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল ‘কাঠ লিচু’। অঞ্চলভেদে এটি ‘আঁশফল’ নামেও বেশ পরিচিত। এক সময় অবহেলিত ও বাণিজ্যিকভাবে মূল্যহীন থাকলেও, বর্তমানে মাগুরার বাজারে এর কদর ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
বর্তমানে মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজারে কাঠ লিচুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। লিচুর মতোই খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা মিষ্টি ও রসালো শাঁস খেতে হয় বলে বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে ফলটি বেশ পছন্দের। আগে রাস্তার ধারে বা বাড়ির আঙিনায় অযত্ন-অবহেলায় এই গাছ জন্মালেও, এখন ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় অনেকেই পুরোনো গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি নতুন করে চারা রোপণে আগ্রহী হচ্ছেন। ফল পাকার এই মৌসুমে বাদুড় ও পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে অনেক চাষিকে গাছ মশারির জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা যাচ্ছে।
মাগুরার শ্রীপুর এলাকার ক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, “আগে কাঠ লিচু এতটা জনপ্রিয় ছিল না। তবে লিচুর তুলনায় দাম কম এবং স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় গত কয়েক বছরে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমার বাচ্চারাও এই ফল খুব পছন্দ করে।”
মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বনারায়ণপুর গ্রামের মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী সাদ্দাম কাজী বলেন, “লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই বাজারে কাঠ লিচুর বিক্রি বেড়ে যায়। বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে চাষ না হলেও স্থানীয় বাজারে এর ভালো সরবরাহ রয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি ছড়া কাঠ লিচু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও প্রায় এক মাস বাজারে এই ফল পাওয়া যাবে।”
ফলটির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, “কাঠ লিচু শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ উপাদান ও ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এই ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুণ সহায়তা করে।”
এক সময় অবহেলিত হিসেবে পরিচিত কাঠ লিচু এখন মাগুরার গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় মৌসুমী ফলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে উন্নত জাতের চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই ফল কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়ের নতুন উৎস হয়ে উঠতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :