
আসন নিয়ে সৃষ্ট মতবিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল ও জোটগুলোর সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক শুরু করেছে বিএনপি।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বৈঠকের প্রথম দিনে ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটকে একটি করে আসন ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি। পাশাপাশি ১২ দলীয় জোটকে আরো একটি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া মিত্র জোটগুলোর অন্যান্য দলকে ভিন্নভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল সব জোটের সঙ্গে আলোচনা শেষে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গেও বৈঠকে বসবে দলটি। দলটি নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনসহ একাধিক আসন চেয়েছে। এর মধ্যে দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী নীলফামারী-১ আসনে জোটের প্রার্থী হতে চান। এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাতো ভাই। ফলে সেই দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তুহিন। এ আসন নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত জমিয়ত যদি এ আসন না পায় সে ক্ষেত্রে তারা জোটে থাকবে কি না সেটা নিয়েও জটিল সমিকরণে দলটি।
তবে ইতিমধ্যে এ আসনে বিএনপির সমর্থকরা ভোটের মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং তাদের দাবী তুহিন দলের গ্রীন সংকেত পেয়ে নিজ এলাকায় এসেছেন। অপরদিকে জমিয়তের দাবী এ আসনে আফেন্দীই হচ্ছেন জোটের প্রার্থী। জোট হলে অবশ্যই এ আসন জমিয়ত পাবে।
তাই নীলফামারী-১ আসনে কে পাচ্ছেন তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল (১৮ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে নড়াইল-২ আসনে প্রার্থী করার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে বিএনপি। এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে আগামী ২০ ডিসেম্বর।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে এবং বিকেলে ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ছয় দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ এবং গণফোরামের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠকে বসবে বিএনপি। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের বৈঠক সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ-৫ ও কুষ্টিয়া-২ আসনসহ কয়েকটি আসন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন মিত্ররা। এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ড ইতিবাচকভাবে চিন্তাভাবনা করছে বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব দলকে নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেন জোট নেতারা। তাদের দাবি, জাতীয় সরকারে সব দলকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের এবার সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের ভবিষ্যতে সংসদের উচ্চকক্ষে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, “বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে। আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি। দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে আমাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, “আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা ৯টি আসনের দাবি জানিয়েছি। বিএনপির পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। যাদের এবার মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না, ক্ষমতায় গেলে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :