
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। এতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের আবাদি জমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পলি ও বালু জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। ফলে দুই কূল ছাপিয়ে চরের ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আকস্মিক এই বন্যা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের শত শত কৃষক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) সকাল থেকেই ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। দুপুর ১২টার পরিমাপে দেখা যায়, নদীর পানি বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে পানি ধাপে ধাপে বাড়তে শুরু করে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে নদীর পানি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় চরাঞ্চলের কৃষকেরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লেও এবার মৌসুমের শুরুতেই আকস্মিক ঢল নেমেছে। বর্তমানে চরের জমিতে বাদাম, ভুট্টা ও বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজির আবাদ রয়েছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চর খড়িবাড়ি এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প পানিতেই জমি তলিয়ে যায়। জমিতে এখন পাকা বাদামসহ নানা ফসল আছে। পানি যদি আরও কয়েকদিন জমে থাকে, তবে আমাদের সব ফসল পচে শেষ হয়ে যাবে।”
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নদীর পানির চাপ কমাতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে পানি পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদীতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :