মুক্ত স্বদেশ ২০২ দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী | মুক্ত স্বদেশ

২০২ দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী


নিউজ ডেস্ক জুন ৮, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ন
২০২ দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের মোট ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ সোমবার (৮ জুন) সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। একই সাথে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং একক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে। এই একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য এবং প্লাস্টিক পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে একই ধরনের নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আংশিক রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক রপ্তানি বৃদ্ধি ও পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে জাপানের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের আদলে দেশে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার জন্য ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা রপ্তানি পণ্য ঘোষণা করেছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এর ফলে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি সদস্য দেশসমূহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ অন্যান্য সম্ভাব্য বাজারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রচলিত বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিআইএস ও আফ্রিকান দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ঋণ তহবিল’ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করেছে, যা রপ্তানি উন্নয়নে নতুন মাইলফলক। এলডিসি উত্তরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে নগদ সহায়তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত বিকল্প প্রণোদনা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সরকার কাজ করছে।