
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নয়ন সংকটে ধীরে ধীরে আকর্ষণ হারাচ্ছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এখানে ভিড় জমালেও পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে হতাশ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সক্ষমতা থাকলেও পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে মাধবকুণ্ডের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। জলপ্রপাত এলাকাজুড়ে ময়লা-আবর্জনা, অপর্যাপ্ত ডাস্টবিন, নোংরা পরিবেশ, ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জলপ্রপাতের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট ও নানা ধরনের বর্জ্য পড়ে রয়েছে। পর্যটকদের চলাচলের কিছু পথ পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল নামলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “মাধবকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। কিন্তু পর্যটনকেন্দ্রটির পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা হতাশাজনক। বিভিন্ন জায়গায় ময়লা পড়ে থাকতে দেখেছি। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেই।”
আরেক দর্শনার্থী বলেন, “পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি চোখে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা আজিম উদ্দিন বলেন, “মাধবকুণ্ড আমাদের এলাকার গর্ব। কিন্তু অবহেলা ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কঠোর তদারকি প্রয়োজন।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল আহমদ বলেন, “আগের তুলনায় পরিবেশের অনেক পরিবর্তন এসেছে। পর্যটক এখনো আসে, তবে উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখানে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও সচল হবে।”
বাংলাদেশ বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা নিলুতপল সরকার বলেন, “মাধবকুণ্ড এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অনেক পর্যটক সচেতন না হওয়ায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা ডাস্টবিন ব্যবহার না করে যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বে এখানে কিছু মেরামত কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেই। তবে ভারী বর্ষণ বা প্রাকৃতিক কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক টয়লেট, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন, কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক নির্দেশনা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে দেশের অন্যতম এই পর্যটন কেন্দ্র ভবিষ্যতে তার আকর্ষণ হারাতে পারে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতকে পর্যটনবান্ধব ও পরিবেশসম্মত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা।
আপনার মতামত লিখুন :