মুক্ত স্বদেশ মৃত্যুর ৩০ বছর পর সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ | মুক্ত স্বদেশ

মৃত্যুর ৩০ বছর পর সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ


নিউজ ডেস্ক জুন ১০, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ন
মৃত্যুর ৩০ বছর পর সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দেহাবশেষ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও নতুন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন, যা বুধবার (১০ জুন) নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত ২০ মে সিআইডির পক্ষ থেকে এই আবেদনটি করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় কিছু আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সে সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করলেও পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। তবে ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাসে সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও খলনায়ক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সালমান শাহর শয়নকক্ষে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং তার গলায় দড়ির দাগসহ মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ ছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলা এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক আইনি লড়াই চালানো হচ্ছিল। বাবার মৃত্যুর পর বর্তমানে সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর এই মামলাটি পরিচালনা করছেন। আদালতের নতুন এই আদেশের ফলে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিআইডি পুনর্তদন্তের কাজে এক বড় অগ্রগতি পেল।