মুক্ত স্বদেশ বাকেরগঞ্জের ৫০০ বছরের পুরোনো ‘জ্বীনের মসজিদ’ ও রহস্যের গল্প | মুক্ত স্বদেশ

বাকেরগঞ্জের ৫০০ বছরের পুরোনো ‘জ্বীনের মসজিদ’ ও রহস্যের গল্প


নিউজ ডেস্ক অগাস্ট ১, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ন
বাকেরগঞ্জের ৫০০ বছরের পুরোনো ‘জ্বীনের মসজিদ’ ও রহস্যের গল্প

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙশ্রী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের এক নিভৃত প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে সময়ের নীরব সাক্ষী ‘রাজাপুর শাহী জামে মসজিদ’। প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নানা লোককথা বুকে ধারণ করে টিকে থাকা এই প্রাচীন স্থাপনাটি স্থানীয়দের কাছে কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং এক বিস্ময় ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের প্রতীক। লোকমুখে এটি ‘জ্বীনের মসজিদ’ কিংবা ‘গায়েবি মসজিদ’ নামেও পরিচিত।

বাকেরগঞ্জ-বরগুনা আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই শাহী মসজিদটি মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের আমলে তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শেখ শফিউল্লাহ ইট, পাথর ও সুরকির সমন্বয়ে এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি নির্মাণ করেন।

স্থানীয় প্রবীণদের সূত্রে জানা যায়, নির্মাণের বহু বছর পর এলাকাটি ঘন জঙ্গলে পরিণত হলে মসজিদটি মানুষের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। পরবর্তীতে ১৮৭৬ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে জঙ্গল উপড়ে গেলে লোকচক্ষুর সামনে আসে প্রাচীন এই উপাসনালয়। এরপর এলাকাবাসী জঙ্গল পরিষ্কার করে পুনরায় সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় শুরু করেন। মসজিদটিকে ঘিরে রয়েছে রহস্যময় নানা গল্পকথা।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, গভীর রাতে এখানে অদৃশ্য জগতের বাসিন্দারা (জ্বীন) এসে ইবাদত করে। যদিও এর কোনো ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক প্রমান মেলেনি, তবুও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রচলিত এসব লোককাহিনি আজও মানুষের কৌতুহল বাড়িয়ে চলেছে। স্থাপত্যগত দিক থেকে চার কোণায় চারটি সুউচ্চ মিনার, তিনটি মেহরাব ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ খিলান নিয়ে নির্মিত এই মসজিদ দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় জমান ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বপ্রেমীরা। প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মুসল্লি এখানে জুমার নামাজ আদায়ে সমবেত হন। এলাকাবাসীর জোর দাবি, শত শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নিয়ে সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হোক।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল জানান, “মসজিদটির ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”