মুক্ত স্বদেশ ভুল শুধরে ডোমারে স্থানীয় নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা তুহিনের | মুক্ত স্বদেশ

ভুল শুধরে ডোমারে স্থানীয় নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা তুহিনের


নিউজ ডেস্ক জুলাই ৩০, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ন
ভুল শুধরে ডোমারে স্থানীয় নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা তুহিনের

নির্বাচনী ফলাফল ও দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন)।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নীলফামারীর ডোমারে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশ, মতবিনিময় ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে যুবসমাজকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে প্রস্তাবিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের নির্ধারিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে সারাদেশের তুলনায় নীলফামারীতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার বিষয়টি টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাহরিন চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনে সারাদেশে যেখানে বিএনপির জয়জয়কার অবস্থা, সেখানে আমরা নিজেরাই নিজেদের ডুবিয়েছি; সেই সাথে গোটা নীলফামারী জেলাকেও ডুবিয়েছি।”

নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্ত ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “যারা ভোটের রাজনীতিতে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে, মানুষ তাদেরই ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ঢাকার মানুষ আমাদের ‘মফিজ’ বলতো, আর যখন আমরা সঠিক জায়গায় ভোট দিতে ব্যর্থ হলাম, তখন থেকে আমাদের ‘জান্নাতি মফিজ’ বলা শুরু করেছে।”

আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে আমরা যে ভুল করেছি, আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের প্রমাণ করতে হবে—আমরা ‘মফিজ’ নই।”

শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান প্রসারে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “সবাইকে যে ডাক্তার বা প্রকৌশলী হতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে আমরা কারিগরি কলেজ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি।”

সুধী সমাবেশে তাঁর এমন স্পষ্টভাষী বক্তব্য, স্কুলের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং কারিগরি কেন্দ্রের জায়গা পরিদর্শনের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল এটিকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান এবং এলাকার শিক্ষা-উন্নয়নে এক বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু, প্রশাসক মিজানুর রহমান, ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেয়াজুল ইসলাম কালু, সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সুমন এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা রায়হানুল হক প্রধানসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।