মুক্ত স্বদেশ 'বউ ভাগিয়ে নেওয়ার' মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা দম্পতি | মুক্ত স্বদেশ

‘বউ ভাগিয়ে নেওয়ার’ মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা দম্পতি


নিউজ ডেস্ক জুন ১০, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ন
‘বউ ভাগিয়ে নেওয়ার’ মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা দম্পতি

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অলরাউন্ডার নাসির হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা উভয়ই আদালতে হাজির ছিলেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় আনীত অভিযোগসমূহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের খালাস প্রদান করেছেন। এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। ওই দিনের শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেছিলেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাঁদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিব হাসানের বিয়ে হয় এবং তাঁদের আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তাম্মির সঙ্গে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

রাকিবের অভিযোগ ছিল, তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। নাসিরের বিরুদ্ধে তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আনা হয়। এই অনৈতিক সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তাঁর কন্যা মারাত্মক মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন এবং তাঁর চরম মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেন। পরবর্তীতে এই আদেশের বিরুদ্ধে উভয় পক্ষ রিভিশন আবেদন করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত তা নামঞ্জুর করে বিচার চালিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন। গত ১৬ এপ্রিল ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় এবং গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ৮ এপ্রিল তামিমার সাফাই সাক্ষী সম্পন্ন হয়।

রায় ঘোষণার আগে বাদী রাকিব হাসান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “জোর করে তো একসঙ্গে থাকা যায় না। সে তো আমার শত্রু না। কেউ ইচ্ছে করলেই যাতে কারও বউ ভাগিয়ে নিতে না পারেন, সেজন্য পাঁচ বছর ধরে ন্যায়বিচার পেতে লড়েছি।”

অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু সন্তোষ প্রকাশ করেন। আইনি লড়াইয়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত এই তারকা দম্পতিকে সব দায় থেকে খালাস দিলেন।