মুক্ত স্বদেশ কটিয়াদীতে নদী তলদেশের তিতাস গ্যাসে ছিদ্র, ২ মাস ধরে অপচয় | মুক্ত স্বদেশ

কটিয়াদীতে নদী তলদেশের তিতাস গ্যাসে ছিদ্র, ২ মাস ধরে অপচয়


নিউজ ডেস্ক অগাস্ট ১, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ন
কটিয়াদীতে নদী তলদেশের তিতাস গ্যাসে ছিদ্র, ২ মাস ধরে অপচয়

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নদী পারের অবৈধ চুন কারখানায় চুরির সংযোগ নিতে গিয়ে তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইনে ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গত প্রায় দুই মাস ধরে নদীর তলদেশ থেকে তীব্র গতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে বহুমূল্য প্রাকৃতিক গ্যাস। রাষ্ট্রীয় সম্পদের এমন অপচয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাটি কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে একটি ঝোপঝাড়ের ভেতর বেআইনিভাবে চুনের কারখানা গড়ে তোলে একটি চক্র।

নরসিংদী থেকে নদী তলদেশ হয়ে কিশোরগঞ্জে যাওয়া তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইনটি এই অবৈধ কারখানার পাশ দিয়েই গেছে। স্থানীয় চক্রটি রাতের আঁধারে ওই পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সংযোগ নিতে ব্যর্থ হয়ে মূল পাইপটি ছিদ্র করে ফেলে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়লে জড়িতরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।

গত কয়েকদিনে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই ছিদ্রটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে নদীর পানির নিচ থেকে বড় বড় বুদবুদ আকারে অনবরত গ্যাস বের হচ্ছে, যা এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

পাইপলাইন মেরামতের দায়িত্বে থাকা ফোরম্যান মো. রুহুল আমীন ও মো. মোমেন মিয়া জানান, “অসাধু চক্র চুরি করে সংযোগ নিতে গিয়েই এই অঘটন ঘটিয়েছে। আমাদের বিষয়টি প্রায় ২০ দিন আগে জানানো হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ছিদ্রের ওপর থেকে মাটি সরে গিয়ে গ্যাস বের হওয়ার তীব্রতা বেড়েছে। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনতে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুতই এটি মেরামতের কাজ শেষ করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে, সেখানে দুই মাস ধরে একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের এভাবে অপচয় হচ্ছে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”

অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ মিয়া অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী এবং গ্যাস কর্তৃপক্ষের অসাধু অরিয়া বা কর্মচারীদের যোগসাজশ ছাড়া এত বড় অপকর্ম করা সম্ভব নয়। এদিকে ঘটনার পর থেকে অবৈধ চুন কারখানার মালিক বা জড়িতদের কাউকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।