
নীলফামারীর ডিমলায় নিখোঁজের প্রায় ২২ দিন পর একটি সুপারি বাগানের মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি এক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকায় ওই যুবককে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টন ও বস্তায় বন্দি করে ডিমলায় এনে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলার ২ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকার হুসেনের মোড় সংলগ্ন নিউ মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের একটি সুপারি বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাকিব টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার হিমনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মেডিকেল কোচিংয়ে পড়াশোনা করতেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত চাল ব্যবসায়ী মো. আফছার আলীর ছেলে মো. মামুন ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকায় রাকিবকে হত্যার পর মরদেহ ডিমলায় এনে নিজ বাড়ির পাশের সুপারি বাগানে গর্ত করে পুঁতে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর নিহত রাকিবের পরিবারের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও ও অডিও বার্তা পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। পরে সন্দেহভাজন মামুনকে গ্রেপ্তার করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডিমলায় মরদেহ পুঁতে রাখার স্থানটি শনাক্ত করা হয়।
ঘটনার অনুসন্ধানে ঢাকা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ডিমলায় আসে। পরবর্তীতে ডিমলা থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালিয়ে সুপারি বাগানের মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে ভিড় জমান শত শত উৎসুক মানুষ।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, রাকিবের পরিবারের কাছে তিন থেকে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডিমলায় মরদেহ এনে পুঁতে রাখার ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে অভিযুক্ত মামুন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর এর পরিচয় নিশ্চিতকরণ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :