মুক্ত স্বদেশ মাথায় হেলমেট পরে চলছে দাপ্তরিক কাজ, ঝুঁকিপূর্ণ বড়বাড়িয়া ইউপি ভবন | মুক্ত স্বদেশ

মাথায় হেলমেট পরে চলছে দাপ্তরিক কাজ, ঝুঁকিপূর্ণ বড়বাড়িয়া ইউপি ভবন


নিউজ ডেস্ক অক্টোবর ৬, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ন
মাথায় হেলমেট পরে চলছে দাপ্তরিক কাজ, ঝুঁকিপূর্ণ বড়বাড়িয়া ইউপি ভবন

মাথার ওপর ঝুলছে বিপদের শঙ্কা। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। ভবনের ভেতরে ঢুকলেই আতঙ্ক—কখন মাথার ওপর ভেঙে পড়ে ছাদের অংশ! বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নং বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর হেলমেট ছাড়াই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও চরম আতঙ্ক নিয়ে ভবনে প্রবেশ করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। অথচ প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এখানে আসেন শতাধিক মানুষ। ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের নাজুক দশার কারণে সবার মধ্যেই বিরাজ করছে চরম নিরাপত্তাহীনতা।

সর্বশেষ গত রবিবার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত আয়া সবিতা রানীর মাথায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে তিনি আহত হন। এ ঘটনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে আছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পরিষদের কর্মরত কয়েকজন মাথায় হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করছেন। ভবনের হলরুম ও তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতিদিন মানুষের ভিড় থাকলেও প্রতিটি কোণই এখন বিপজ্জনক।

সেবা নিতে আসা প্রসেনজিৎ ও আতিয়ার রহমান জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন কাজে ভবনে ঢুকতেই ভয় লাগে। মাথার ওপর কখন পলেস্তারা খসে পড়ে, সেই আতঙ্ক সবসময় থাকে। সরকারি সেবা নিতে এসে যদি দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক দিন ধরে ভবনটির এই অবস্থা। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুর রহমান জানান, ভবনের কোনো কক্ষই নিরাপদ নয়। পলেস্তারা খসে পড়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন আহতও হয়েছেন। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার জানান, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, “জায়গা স্বল্পতার কারণে বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই সংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”