মুক্ত স্বদেশ স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে অসুস্থ ১৯ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি | মুক্ত স্বদেশ

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে অসুস্থ ১৯ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি


নিউজ ডেস্ক অক্টোবর ৫, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ন
স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে অসুস্থ ১৯ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতাধীন প্যাকেটজাত দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, সোমবার দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ‘আরডি’ নামের রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের প্যাকেটজাত দুধের কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান এবং কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।

বিষয়টি তৎক্ষণাৎ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয় এবং শিক্ষকেরা দুধের প্যাকেটের ছবি তুলে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে এসে নিজেই দুধ পরীক্ষা করে কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেন এবং শিক্ষার্থীদের তা পান করতে বলেন।

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তা নিজে খাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা দুধ পানের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে একে একে মাথা ঘোরানো, পেট ব্যথা, খিঁচুনি ও দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা নাগাদ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ জনে দাঁড়ায়। চতুর্থ শ্রেণির অসুস্থ শিক্ষার্থী মনির হোসেন জানায়, দুধ খাওয়ার পর থেকেই তার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয় এবং সে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, “দুধ বিতরণের সময় প্যাকেটে ত্রুটি দেখে আমরা তা বিতরণ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোম্পানির কর্মকর্তা এসে নিজে খেয়ে সবাইকে খাওয়ানোর পর পরই শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে এক শিক্ষার্থী এবং পরে অভিভাবকদের মাধ্যমে একে একে ১৯ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়। বর্তমানে সবার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা হাসপাতাল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি জানান, দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে এবং দায়িত্বে কারও গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।