
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বহুল কাঙ্ক্ষিত এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক বিষয়বস্তু নিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনো সরাসরি কিছু জানানো না হলেও খসড়ার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, দুই দেশের মধ্যকার এই সমঝোতায় মোট ১৪টি মূল বিষয় বা ধারা সন্নিবেশিত থাকছে।
সোমবার ভোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই চুক্তি সম্পাদনের ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এরপর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি খসড়া চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অঙ্গীকার। এছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে রাখা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
চুক্তির অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত শর্তে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি না করার পাশাপাশি ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে ওয়াশিংটন। ক্ষতিপূরণ ও সহযোগিতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে ইরানকে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল প্রদান করা হবে। এর বিপরীতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ রাখার এবং কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মেহর নিউজ আরও জানিয়েছে, ইরানের জব্দকৃত তহবিলের অন্তত অর্ধেক মুক্তি, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের আগে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। এই সামগ্রিক চুক্তিটি পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হবে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকে প্রাথমিক সম্মতি আসার পর মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি প্রাক-বাস্তবায়ন বৈঠকের আয়োজন করবেন, যেখানে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তিনি আরও জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এই দীর্ঘ ও জটিল আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতা করার জন্য কাতারকেও ধন্যবাদ জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
আপনার মতামত লিখুন :