মুক্ত স্বদেশ ভোগান্তির নাম গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী | মুক্ত স্বদেশ

ভোগান্তির নাম গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী


নিউজ ডেস্ক জুন ১৩, ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
ভোগান্তির নাম গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী, ব্যবসায়ী ও চালকদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।

সিলেট-জকিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বড়লেখা, বিয়ানীবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার হাজারো যানবাহন চলাচল করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এ পয়েন্টে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যানজট নিয়ন্ত্রণে যেখানে প্রতিদিন অন্তত চার থেকে পাঁচজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব পালন প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে অধিকাংশ সময় মাত্র একজন বা দুইজন সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অথচ কয়েক মাস আগেও এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত চার থেকে পাঁচজন ট্রাফিক সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। তখন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলক শৃঙ্খলা বজায় থাকলেও বর্তমানে জনবল সংকটের কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিআইএমএস (PIMS) এর তথ্য অনুযায়ী গোলাপগঞ্জে কর্মরত কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে নিয়মিতভাবে সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকায় ডিউটির জন্য পাঠানো হচ্ছে। ফলে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত সদস্যদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশেষ করে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ খোলার ও ছুটির সময় এবং বাজারকেন্দ্রিক ব্যস্ত সময়ে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী রোগী ও সাধারণ মানুষও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা ট্রাফিক বিভাগের টিআই (অ্যাডমিন) শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,গোলাপগঞ্জে যাদের ডিউটি রয়েছে, তাদের গোলাপগঞ্জেই দায়িত্ব পালনের কথা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোথাও ডিউটি করার কথা নয়। বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে দেখব।

অন্যদিকে, গোলাপগঞ্জের ট্রাফিক সদস্যদের অন্যত্র ডিউটিতে পাঠানোর বিষয়ে সিলেট জেলা ট্রাফিক বিভাগের মুন্সি মাহবুবুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য টিআই (অ্যাডমিন) স্যারের কাছ থেকে পাওয়া যাবে।

তবে এ বিষয়ে টিআই (অ্যাডমিন) ও মুন্সির বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়।

সচেতন নাগরিকদের মতে, গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী শুধু উপজেলার নয়, পুরো অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। তাই এই পয়েন্টে পূর্বের মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আধুনিক ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।