মুক্ত স্বদেশ বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস | মুক্ত স্বদেশ

বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস


নিউজ ডেস্ক জানুয়ারী ১২, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ন
বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস

আইআইএলডি’র জনমত জরিপ

ত্রয়োদশ নির্বাচনে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর ভোট পাওয়ার ব্যবধান থাকবে ১ দশমিক ১ শতাংশ। ৩৪.৭ শতাংশ ভোট নিয়ে এতে এগিয়ে থাকবে বিএনপি। অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি আস্থা রেখেছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার। চার প্রতিষ্ঠানের প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

১২ জানুয়ারি (সোমবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে এ জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপে এসব তথ্য উঠে আসে। ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) এ জরিপ পরিচালনা করে। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ‘প্রজেকশন বিডি’, ‘জাগরণ ফাউন্ডেশন’ ও ‘ন্যারেটিভ’।

সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত মোট ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন।

জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন আইআইএলডির কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচনে বিএনপির ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীর ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ, এনসিপির ৭ দশমিক ১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং অন্যান্য দলের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে।

জরিপে আরও বলা হয়, সমর্থনের কারণ হিসেবে বিএনপির ৭২ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থক দলটির অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাকে সমর্থনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দলের সমর্থন ও উদ্বেগ :

জামায়াতে ইসলামী: সততা ও পরিবর্তনের রাজনীতি- জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটিকে মূলত ‘কম দুর্নীতিগ্রস্ত’ (৪৪.৮%) এবং ‘সততার ভাবমূর্তি’ (৪০.৭%)-এর কারণে সমর্থন করছেন। তাদের সমর্থনের ভিত্তি হলো- তরুণ প্রজন্ম: ১৮-২৯ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন সর্বোচ্চ (৩৩.৬%)।

বিএনপি: অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা- বিএনপির ৭২.১ শতাংশ সমর্থক দলটির অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাকে সমর্থনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডেমোগ্রাফিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে ৩০-৪৪ বছর (৩৮.৪%) এবং ৪৫-৫৯ বছর (৩৭.৪%) বয়সী কর্মক্ষম ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন বেশি। পেশাজীবীদের মধ্যে কৃষক (৪২.৬%) এবং শ্রমিকদের (৪০.৬%) মধ্যে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে।

উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী: স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে দলটির সমর্থন ৩৭.৪ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। ডিজিটাল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে দলটি এগিয়ে আছে।

এনসিপি ও জুলাই বিপ্লবের প্রভাব: নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টিকে (এনসিপি) সমর্থন করার পেছনে ৩৬.৭ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা’-কে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের প্রফেসর মুশতাক খান, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের ডিন একেএম ওয়ারেসুল করিম, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।