
শস্যভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুরের খাদ্য উদ্বৃত্ত বিরামপুর উপজেলায় বন্যার প্রভাবমুক্ত আমনের খেত এখন সবুজ সমারোহে ভরে উঠেছে। সুশোভিত এই আমনের খেত যেন আবহমান গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ ফুটিয়ে তুলেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় জানান, উপজেলার পৌর এলাকা ও ৭টি ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। আমন চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের কৃষি প্রণোদনার আওতায় চার হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ধানের ভালো দাম এবং সরকারি সহায়তার কারণে কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমন রোপণ করেছেন। বিশেষ করে সুগন্ধি ধানের জন্য খ্যাত এই অঞ্চলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে সুগন্ধি জাতের আমন চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও মাঠপর্যায়ের পরামর্শে কৃষকরা নিয়মিত সার প্রয়োগ ও নিবিড়ভাবে খেতের পরিচর্যা করছেন। ফলে বন্যার প্রভাবমুক্ত অনুকূল আবহাওয়ায় দিগন্ত বিস্তৃত আমনের খেত এখন সবুজে সেজেছে। মাঠভরা সবুজ আর বাড়ন্ত খেত দেখে ভালো ফলনের উচ্চাসিত আশা নিয়ে বুক বেঁধেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের রোপণ করা প্রধান জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা-৫ এবং সুগন্ধি জাতের ব্রি ধান৩৪ (জিরা কাটারী), সম্পা কাটারী ও আলিম জিরা।
উপজেলার চকমাধব (গোপালপুর) গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন মন্ডল আশা প্রকাশ করে জানান, আবহাওয়া এভাবেই অনুকূলে থাকলে এবারও আমনের আশাতীত ফলন ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :