
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে। এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও তারেক রহমানের খালাতো ভাই প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর নাম ঘোষণা করেন।
জমিয়তের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার খরব ছড়িয়ে পড়লে গোটা নীলফামারী জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে আক্ষেপ ও অসন্তষমুলক পোষ্ট। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডিমলা উপজেলা বিএনপির সমর্থক আশিক লেমন, তিনি লিখেছেন দলের কোন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য দির্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন মেনে নিয়ে রাজনীতি করি নি। প্রতিবাদের জন্য প্রস্তুত হোন।
নীলফামারী জেলা বিএনপির নেতা এ্যাডভোকেট মাসুদ চৌধুরী লিখেন, শাহরিন ইসলাম তুহিন ভাইয়ের নাম ঘোষণা না করে যে ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বিরোধিতা করছি। তুহিন ভাই নির্বাচন করলে এ আসনে জয় নিশ্চিত অন্যথায় আসনটিতে পরাজিত হতে হবে।
ডিমলা উপজেলা বিএনপির এক নেতা লিখেন, ইনশাআল্লাহ সব ষড়যন্ত্র রুখে দিবো । প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ভাই হবেন ডোমার-ডিমলার ধানের শীষের কান্ডারি।
ডোমার উপজেলা বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী সিথুন লিখেন, দল ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুর্ন:বিবেচনার অনুরোধ করছি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ক্ষোভ থাকলেও শেষ পযর্ন্ত জোটের প্রার্থীকেই মেনে নিতে হবে স্থানীয় বিএনপিকে। এটি দলীয় সিদ্ধান্ত। বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তিনি একটি দলের মহাসচিব সেক্ষেত্রে দলের কাছে খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যের চেয়ে দলকে মুল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে জোটের শরিকদলের মহাসচিব নির্বাচন করায় ভাগিনাকে ছেড়ে শরিকের হাত ধরেছে বিএনপির হাই কমান্ড।
এ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল জানান, এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতে হবে। কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও জানান, জমিয়ত নেতারা তাদের দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়েই নির্বাচন করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :