
বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা হতে যাচ্ছে। এবার সব নামিদামি দলকে হারিয়ে সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স—এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দেশবরেণ্য জ্যোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার। গত মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় তিনি এই স্ট্যাটাস দেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধ নিয়েও তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে।
ফেসবুকে দেওয়া জ্যোতিষী আবদুস ছালামের সেই পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
“২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক তুমুল উন্মাদনা। সাধারণ মানুষ যখন দলগুলোর অতীত পরিসংখ্যান আর পারফরম্যান্স নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে ব্যস্ত, তখন প্রচলিত সব ধারণাকে পাশ কাটিয়ে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত নিয়তি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্ববাসী এমন কিছু অবিশ্বাস্য অঘটন আর চরম ট্র্যাজেডি দেখবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কোটি ভক্তের বুকভাঙা কান্না আর মাঠের রক্তক্ষয়ী লড়াই সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনকে বিদায় নিতে হবে সেমিফাইনালের মঞ্চ থেকেই। এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়ে লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের সূর্যখ্যাত ব্রাজিল এবার ফাইনালের ঠিক আগের মুহূর্তে এসে ফুটবলের আকাশ থেকে অস্তমিত হবে।”
তিনি আরও লেখেন, “ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক দিনে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রণাঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স। একদিকে থাকবে দীর্ঘদিনের শিরোপার খরা কাটিয়ে বিশ্বজয়ে মরিয়া ইংলিশরা, আর অন্যদিকে থাকবে অপ্রতিরোধ্য শক্তির ফরাসিরা। কিন্তু ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, কাপের একদম দ্বারপ্রান্তে গিয়ে এক অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খাবে ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন। এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর বীরোচিত পরাজয় সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হবে তাদের, রানার আপের মর্যাদা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইংলিশদের। কারণ, ১৯শে জুলাইয়ের সেই মোক্ষম ক্ষণে এক অনন্য এবং জাদুকরী আশীর্বাদ বর্ষিত হবে ফরাসিদের ওপর। উল্লেখিত সমস্ত পরিস্থিতি আর শক্তির গতিপথকে সামনে রেখে আজ অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করছি—২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করে, সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ববিজেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স।”
পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, “যাঁরা সমসাময়িক খবরের কাগজের বিশ্লেষণ বা গাণিতিক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়েও বাস্তব সত্যকে আগেভাগেই অনুধাবন করতে ভালোবাসেন, এই বার্তাটি মূলত তাঁদের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য। ফুটবল মাঠে বল গড়ানোর পর থেকে প্রতিটি মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ যখন এই পূর্বাভাসের সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলতে শুরু করবে, তখন সংশয়বাদীদের সমস্ত যুক্তিই ম্লান হয়ে যাবে। ১৯শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচ শেষে এই প্রতিটি শব্দের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সবাইকে অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম।”
এই ভবিষ্যদ্বাণী প্রসঙ্গে জ্যোতিষী মো. আবদুছ ছালাম শিকদার বলেন, “আমি প্রায় দুই সপ্তাহ গবেষণার পর এই প্রেডিকশনটি সম্পন্ন করেছি। আল্লাহর রহমতে এর আগেও আমার বিভিন্ন প্রেডিকশন সফল হয়েছিল। আমি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোলজি থেকে জ্যোতিষ ডিগ্রি অর্জন করেছি। মানুষ আমাকে প্রেডিকশন করতে উৎসাহ জোগায়, সেজন্যই মূলত এটি করা।”
উল্লেখ্য, জ্যোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম হাজী মো. জালাল উদ্দিন শিকদার। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে আবদুস ছালাম দ্বিতীয় সন্তান। মাঠের বল গড়ানোর আগেই তাঁর এই চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী এখন ফেসবুক ও স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :