মুক্ত স্বদেশ বরগুনা ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার | মুক্ত স্বদেশ

বরগুনা ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার


নিউজ ডেস্ক জুন ১০, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
বরগুনা ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তাঁর দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত একটার দিকে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেন। আজ বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম। তিনি জানান, ইতি রানী ও তাঁর দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে গত শনিবার রাতে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস মামলা করতে থানায় গেলে তাঁকে বাদী না হয়ে নিহত ইতির মাকে বাদী করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে সোমবার দুপুরে আইনজীবীর মাধ্যমে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় আদালত আবেদন গ্রহণ করেননি।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার সাত দিন পার হলেও পুলিশ এখনো এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এদিকে পুলিশ শুরু থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং আত্মহত্যার কোনো কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “গত রাতে থানায় হত্যা মামলা করেছি। এর আগে মামলা করতে গেলে আমাকে বাদী না হয়ে আমার শাশুড়িকে বাদী করতে বলা হয়েছিল। পরে আদালতে গেলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না থাকায় আবেদন নেয়নি। শুরু থেকেই পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলছে। এখন সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি না, তা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।”

গত বুধবার বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) এবং তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ইতি রানী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার পর বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যে কক্ষে বড় মেয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে ঘুমের ওষুধ ও পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে এবং কক্ষের দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণে ওই নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

তবে পুলিশ সুপারের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার আগেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা অনভিপ্রেত। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এর সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।