
হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন লস্কর জানান, মামলার আবেদন জমা নেওয়া হয়েছে, তবে এখনো এর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবহেলা ও নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার ঘটে। এতে শত শত শিশুর মৃত্যু এবং হাজারো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে, যা গুরুতর অপরাধের শামিল। আসামিরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামের ভ্যাকসিন আমদানিতে বিলম্ব ঘটিয়ে নাগরিকদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা সংগ্রহ করে আসছিল। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই প্রচলিত ব্যবস্থা বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশে মারাত্মক টিকার সংকট দেখা দেয়। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সম্ভাব্য সংকট নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, টিকার ঘাটতির কারণে গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবেই প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের বাইরেও বহু শিশু আক্রান্ত ও মারা গেছে।
আবেদনে বলা হয়, পরবর্তীতে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের ব্যবস্থা নিলেও, সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এড়াতে পারেন না। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :