
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর অলৌকিকভাবে পুনরায় দাঁড়িয়ে যাওয়ার দাবিতে আলোচনায় আসা সেই গাছটি অবশেষে কেটে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্যোগে গাছটি অপসারণ করা হয়। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ির পুকুরপাড়ের একটি বড় গাছ ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়ে যায়। পরে গাছটি বিক্রি করার পর কাঠুরিয়ারা যখন এর ডালপালা কাটছিল, তখন গাছের অবশিষ্ট অংশটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয় এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। কেউ কেউ এটিকে অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে প্রচার করে গাছটিতে লাল কাপড় বাঁধা, মানত করা এবং শিকড় সংগ্রহ করা শুরু করেন। অন্যদিকে সচেতন মহল মনে করেন, ডালপালা কাটার পর ভারসাম্যজনিত প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক কারণেই এমনটি ঘটেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাছটিকে ঘিরে ক্রমাগত জনসমাগম বাড়ছিল এবং নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়াচ্ছিল। এছাড়া যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় জনস্বার্থে ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই গাছটি অপসারণ করা হয়েছে। এদিকে গাছটি কেটে ফেলার পর স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রশাসনের উচিত ছিল তাড়াহুড়ো না করে বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণ করা। গাছটি অপসারণ করা হলেও এলাকা জুড়ে এখনও এটি নিয়ে আলোচনা থামেনি।
আপনার মতামত লিখুন :