
বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও স্ট্যাম্পে সই নিয়ে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহা. রকিবুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম তৌহিদুর রহমান সোহেল। তিনি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং নগরীর কাউনিয়া কালাখান সড়ক এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে আইনজীবী সোহেলের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সোহেল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
তরুণীর অভিযোগ, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর নগরীর আমতলার মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে বিয়ের কথা বলে তার কাছ থেকে কয়েকটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন সোহেল। এরপর একটি অফিসে নিয়ে তাকে জানানো হয় যে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোনো রেজিস্ট্রি কাবিন বা বৈধ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের নাটক সাজানোর পরদিন ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গির্জা মহল্লার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রথমবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন সোহেল। পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নগরীর বাজার রোড এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা দীর্ঘ সময় বসবাস করেন। সেখানে সোহেল নিয়মিত যাতায়াত ও শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, বারবার বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করার জন্য চাপ দিলেও সোহেল নানা টালবাহানায় তা এড়িয়ে যেতেন। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল রাতে শারীরিক সম্পর্কের পর তরুণী ফের বিয়ের নিবন্ধনের কথা তুললে সোহেল মারমুখী আচরণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাদের মধ্যে কোনো বিয়ে হয়নি এবং তিনি ওই তরুণীকে স্ত্রী হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতি দেবেন না।
নিরুপায় হয়ে তরুণী প্রথমে থানায় মামলা করতে যান। তবে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিলে গতকাল (১২ মে) ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন হন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম বলেন, মামলার বিষয়টি আমি শুনেছি। ওই তরুণী আগেও আমার কাছে একই বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে আমি দুজনকে নোটিশ করেছিলাম। এখন আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশের কপি পেলে আইনগতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :