
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতিক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো (নবম পে-স্কেল) আজই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং তৃতীয় বছরে গিয়ে যুক্ত হবে বাড়তি ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা।
কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত নির্দেশনার পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম। পুনর্গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতামত পর্যালোচনা শেষ করেছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপ কার্যকর হবে। এই ধাপে সরকারি চাকুরিজীবীরা বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে (দ্বিতীয় ধাপে) আবারও সমপরিমাণ সমন্বয় যুক্ত হবে।
তবে মূল বেতন প্রথম দুই বছরে সমন্বয় করা হলেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ প্রণোদনা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এই সময়ে আগের কাঠামোতেই বহাল থাকবে। অতিরিক্ত এসব ভাতা ও সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে তৃতীয় ধাপে একযোগে কার্যকর করা হতে পারে।
জানা গেছে, এই নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপারিশ অনুমোদনের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :