
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাত বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলামের (২০) পক্ষে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে এই মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো এমন একটি নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে আদালতের কোনো আইনজীবী দাঁড়াবেন না।
এর আগে নিহত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ স্বজন ও এলাকাবাসী জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। পরে তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং জাহিদুল ইসলামের ফাঁসিসহ সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পঞ্চম আদালতে সে এই জবানবন্দি দেয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে জাহিদুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে পানি খাওয়ানোর কথা বলে মাহিদাকে একটি বসতঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। মেয়েকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মাহিদার মা তাকে ওই ঘরে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা জাহিদুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
আপনার মতামত লিখুন :