মুক্ত স্বদেশ কাশফুলের শুভ্রতায় শরতের সাজে সেজেছে নবীনগরের মেঘনাপাড় | মুক্ত স্বদেশ

কাশফুলের শুভ্রতায় শরতের সাজে সেজেছে নবীনগরের মেঘনাপাড়


নিউজ ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ন
কাশফুলের শুভ্রতায় শরতের সাজে সেজেছে নবীনগরের মেঘনাপাড়

নদীর পাড়জুড়ে দুলছে ধবধবে সাদা কাশফুল। কখনো মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে রোদ, আবার কখনো মৃদু বাতাসে একসঙ্গে দুলে উঠছে কাশের শীষ। শরতের এমন নান্দনিক সৌন্দর্যে সেজেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের মেঘনাপাড়সহ বিভিন্ন এলাকা। কাশবনের শুভ্রতা আর মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে তৈরি হয়েছে এক মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য।

শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই মেঘনাপাড়ে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একা আসছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে। নদীর সোনালি চরে দর্শনার্থীদের পদচারণা আর কাশফুলের ফাঁকে ফাঁকে ছবি তোলার ধুম পড়ে যায়। প্রকৃতির এই রূপ যেন ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে মানুষকে দিচ্ছে সাময়িক স্বস্তি।

বর্ষার শেষভাগে আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা ও বাতাসে কোমলতা জানান দেয় শরৎকালের আগমন। শিউলি ও স্বচ্ছ নীল আকাশের পাশাপাশি কাশফুল হলো শরতের মূল আকর্ষণ। নবীনগরের বিভিন্ন নদীর পাড়, চরাঞ্চল ও জলাভূমিতে কাশফুল ফুটলেও পশ্চিম ইউনিয়নের মেঘনাপাড়ের প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কাশবন স্থানীয়দের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

দর্শনার্থী তাহসিন তাবাসসুম, শাহরিয়ার, সজিব ও তাসনিম জানান, যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে তারা এখানে আসেন। কাশফুলের শুভ্রতা ও এখানকার মনোরম পরিবেশ মনকে গভীরভাবে প্রশান্ত করে। কবি আবদুল কাদিরও এই সৌন্দর্যের মুগ্ধতা প্রকাশ করে জানান, রোদ-ছায়ার খেলার মাঝে মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশফুল সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব সৃষ্টি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, কাশ ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। নদীর পাড়, জলাভূমি ও চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব ফুলের মঞ্জরিদণ্ড ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং এর ফুল পালকের মতো নরম ও সাদা হয়ে থাকে।

ঋতু বদলের সঙ্গে একসময় কাশফুল ঝরে গিয়ে প্রকৃতির এই রূপ বদলে যাবে। তবে তার আগেই নবীনগরের মেঘনাপাড়ে নীল আকাশ, সাদা মেঘ ও দিগন্তজোড়া কাশফুলের মিতালি দেখতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।