মুক্ত স্বদেশ পঞ্চগড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক নেই, আক্রান্তরা সবাই বাইরে থেকে আসা | মুক্ত স্বদেশ

পঞ্চগড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক নেই, আক্রান্তরা সবাই বাইরে থেকে আসা


নিউজ ডেস্ক অক্টোবর ১, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ন
পঞ্চগড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক নেই, আক্রান্তরা সবাই বাইরে থেকে আসা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন। পেশায় একটি বাসের সুপারভাইজার। ঢাকায় অবস্থানকালে মশার কামড়ে জ্বর, মাথা ও শরীরব্যথা শুরু হলেও প্রথমে তিনি ডেঙ্গুর বিষয়টি বুঝতে পারেননি। অসুস্থ শরীরেই বাসের একটি ট্রিপ শেষ করে পঞ্চগড়ে ফেরার পর পরীক্ষা করালে তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইসমাইলের মতো চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড়ে মোট ৬৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আক্রান্তদের কেউই পঞ্চগড়ে অবস্থান করে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি। স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তদের প্রায় সবাই ঢাকায় অবস্থান বা যাতায়াতের সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর বাইরে ভারত থেকে আসা একজনের শরীরেও ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে শনাক্ত হওয়া ৬৯ জন রোগীর মধ্যে ৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং দুজন বাড়িতে থেকে সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মাত্র চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, ‘‘আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। পঞ্চগড়ের স্থানীয় পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা সবাই বহিরাগত বা বাইরে থেকে এসেছেন।’’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, বাসাবাড়ির আশপাশে টায়ার, ডাবের খোসা, ফুলের টব বা যেকোনো পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এগুলোই ডেঙ্গুবাহী মশার প্রধান প্রজননকেন্দ্র। এছাড়া ডেঙ্গু শনাক্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার, ডাবের পানি ও স্যালাইন গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।