মুক্ত স্বদেশ লোকসান পুষিয়ে নিতে নীলফামারীতে চলছে আগাম আলু রোপণ | মুক্ত স্বদেশ

লোকসান পুষিয়ে নিতে নীলফামারীতে চলছে আগাম আলু রোপণ


নিউজ ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ন
লোকসান পুষিয়ে নিতে নীলফামারীতে চলছে আগাম আলু রোপণ

শীত আসার আগেই বাজারে নতুন আলু তুলে চড়া দাম পাওয়ার আশায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আলু রোপণে নেমে পড়েছেন তারা।

গত মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় অনেক কৃষককে লোকসান গুনতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক কম বীজের দাম ও সারের স্বাভাবিক সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন তারা। নীলফামারী কৃষিনির্ভর জেলা হলেও এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই আগাম আলু চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম আলু বাজারে তোলার পর প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ‘সেভেন’ জাতের আলু রোপণের মাত্র ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই জমি থেকে তোলা সম্ভব হয়। বাজারে নতুন আলুর উচ্চ চাহিদা ও চড়া দাম থাকায় কৃষকদের মাঝে এই আগাম চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে আমন ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন কৃষকেরা। কেউ আলু রোপণ শেষ করেছেন, আবার কেউ ব্যস্ত সময় পার করছেন জমি প্রস্তুত করায়। এর ফলে কৃষিমহল ও মাঠে বেড়েছে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা, সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে শ্রমিকের চাহিদাও।

বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক মিনারুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন। জমি ইজারা, হালচাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণ বাবদ আলু তোলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে খরচ মিটিয়ে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক নাজমুল ইসলাম ও পুটিমারীর মনছুর আলী জানান, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে হিমাগার থেকে বীজ এনে তারা আগাম আলু চাষ করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।