মুক্ত স্বদেশ জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে মৌলভীবাজারে বেড়েছে তালশাঁসের কদর | মুক্ত স্বদেশ

জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে মৌলভীবাজারে বেড়েছে তালশাঁসের কদর


নিউজ ডেস্ক জুন ৬, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ন
জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে মৌলভীবাজারে বেড়েছে তালশাঁসের কদর

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে কচি তালশাঁসের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে তালশাঁসের অস্থায়ী দোকান। প্রচণ্ড গরমে একটু স্বস্তি পেতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন এসব দোকানে। একই সাথে মৌসুমি এই ফল বিক্রি করে ভালো আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ও ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, আকারভেদে প্রতিটি কচি তাল ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং ভেতরের প্রতিটি শাঁস ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রামাঞ্চল থেকে পাইকারি দরে আস্ত তাল সংগ্রহ করে এনে তারা খুচরা বিক্রি করছেন।

গরম বেশি হওয়ায় প্রতিদিন একেকজন বিক্রেতা ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি করছেন। ক্রেতারা জানান, দুপুরের প্রচণ্ড গরমে কচি তালের নরম শাঁস ও মিষ্টি পানি শরীরে দ্রুত স্বস্তি এনে দেয় এবং তৃষ্ণা মেটায়। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও সতেজ হওয়ায় পরিবারের শিশুসহ সবার জন্যই তারা এটি কিনছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালশাঁসে প্রচুর জলীয় অংশ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা গ্রীষ্মকালে পানিশূন্যতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।

শ্রীমঙ্গলের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নাজেম আল কোরেশী রাফাত জানান, তালের শাঁসে ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, এ ও বি-কমপ্লেক্সসহ নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তশূন্যতা কমাতে ও চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। কৃত্রিম পানীয়ের তুলনায় শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে সতেজ রাখতে এটি দারুণ ভূমিকা রাখছে।