
দূর থেকে দেখলে মনে হবে, মাচায় ঝুলছে লাউ বা কুমড়া। কিন্তু কাছে গেলেই চোখে পড়বে ভিন্ন এক দৃশ্য। মাচায় জাল দিয়ে তৈরি ব্যাগে পরম যত্নে ঝুলছে হলুদ, সবুজ ও ডোরাকাটা রসালো তরমুজ। সারি সারি মাচায় ঝুলে থাকা বাহারি রঙের এসব তরমুজ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় লোকজন। প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন এই ব্যতিক্রমী চাষে দারুণ সম্ভাবনার আলো দেখছেন এলাকার কৃষকেরাও।
ইউটিউবে ভিডিও দেখে আগ্রহ তৈরি হওয়ায় প্রথমবারের মতো অসময়ে তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখতে চলেছেন নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের পূর্ব ডাঙাপাড়া এলাকার কৃষক ওমর আলী (৪৫)। তিনি ৩ বিঘা জমিতে ‘কিং সুগার’ ও ‘সূর্য ডিম’ জাতের মোট ৬ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছেন। বর্তমানে গাছজুড়ে তরমুজ বড় হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে সমস্ত খরচ বাদে প্রায় ৬ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন এই উদ্যমী কৃষক।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমির আইলে আইলে বাঁশের খুঁটি, জিআই তার ও মোটা নেট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সুদৃঢ় মাচা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে ছোট-বড় নানা আকারের তরমুজ। প্রতিটি তরমুজ জালের তৈরি ব্যাগে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ওজনে ফলগুলো ছিঁড়ে পড়ে না যায়। জমির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজের এই সারি এক নজরকাড়া কৃষিশৈল্পিক দৃশ্য তৈরি করেছে।
কৃষক ওমর আলী জানান, আগে তিনি মূলত শসা চাষ করতেন। একদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন জাতের এই তরমুজ চাষের ভিডিও দেখে তার মনে কৌতূহল জন্ম নেয়। পরে ঢাকার একটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে চারা সংগ্রহ করেন এবং নিজের ৩ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। এর মধ্যে দুই বিঘায় ‘কিং সুগার’ এবং এক বিঘায় ‘সূর্য ডিম’ জাতের তরমুজ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে গাছের বয়স ৬০ দিন এবং আশা করছেন আর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই অর্থাৎ ৭০ দিনের মাথায় তরমুজ সংগ্রহ করতে পারবেন। ৩ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে এখন পর্যন্ত তার প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন গড়ে ৩ কেজি ধরে মোট ১৮ হাজার কেজি ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে প্রায় ৯ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে তার বিশ্বাস।
ওমর আলীর এই তাক লাগানো চাষাবাদ দেখে মুগ্ধ স্থানীয় কৃষকরাও। পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষক জগদীশ রায় বলেন, ‘আগে এসব জমিতে শুধু ধান, গম, ভুট্টা বা পাট চাষ হতো। কিন্তু এভাবে মাচায় রঙিন তরমুজ চাষ হতে দেখে আমরা অবাক হয়েছি। ক্ষেতের চমৎকার ফলন দেখে আমাদেরও এখন এই চাষে আগ্রহ জন্মেছে।’
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, ‘কৃষক ওমর আলী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে অসময়ে তরমুজ চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারে এই ফলগুলোর বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় কৃষক যেমন ন্যায্যমূল্য পাবেন, তেমনি ভোক্তারাও তাজা তরমুজ কিনতে পারবেন। আমরা ইতোমধ্যে তার খেত পরিদর্শন করেছি এবং চাষাবাদে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’
আপনার মতামত লিখুন :