
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে পিপিআর (PPR) রোগ। গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি ছাগল মারা গেছে। পর্যাপ্ত টিকা ও ভেটেরিনারি চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় বর্তমানে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শত শত ছাগল। অথচ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে চাহিদার তুলনায় টিকার চরম সংকট থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাড়াশের মহিষলুটি গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল হোসেনের ৫টি, খুটিগাছা মহল্লার মো. হায়দার আলীর ১টি এবং একই এলাকার অপর হায়দার আলী সরকারের ১টিসহ বিভিন্ন এলাকায় গত ১৪ দিনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছাগল মারা গেছে। আক্রান্ত ছাগলগুলোর প্রথমে সর্দি-কাশি ও প্রচণ্ড জ্বর দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে মুখ দিয়ে লালা পড়তে পড়তে মারা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, ছাগলগুলো নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে গেলেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা মিলছে না। অনেক সময় হাসপাতালেও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার না পেয়ে হাতুড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না খামারিদের। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, তাড়াশের আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পিপিআর টিকার মোট চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার। অথচ এর বিপরীতে ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রতিষেধক মজুদ রয়েছে মাত্র ১৬ হাজার।
অর্থাৎ, প্রয়োজনের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগেরও কম টিকা সরবরাহ থাকায় মাঠপর্যায়ে চাহিদামতো টিকাদান কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে টিকাদানকালে পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় টিকাদানকারীদেরও বিপাকে পড়তে দেখা গেছে। রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া মহল্লায় টিকাদানকালে মাত্র ২০-২৫টি ছাগলকে টিকা দিয়েই পর্যাপ্ত টিকার অভাবে অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হন মাঠকর্মীরা।
টিকা সংকটের কথা স্বীকার করে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে কিছু ছাগল মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত টিকার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত চাহিদা পাঠানো হয়েছে। টিকা পেলে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :