
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় মো. ইমরান (৩৮) নামে এক যুবক হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধনের পর অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় পাওনা ২ হাজার ৪০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরানের সঙ্গে আবু কালামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমরান ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
নিহত ইমরান মারিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাতিয়ারচর এলাকার মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে। সামান্য টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ বিশ্বরোডের নতুন জেলখানা মোড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ইমরান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত আবু কালাম ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। এ সময় তাঁরা ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই—ইমরান হত্যার আসামিদের ফাঁসি চাই’ স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সামান্য টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে একজন মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পুলিশ জানায়, মানববন্ধন শেষে কিছু সময়ের ব্যবধানে অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে যায়। ঘরবাড়ির পাশাপাশি পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ইমরান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জেলখানা মোড়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তাঁরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে বাড়িতে ফিরে যান।
ওসি আরও বলেন, “মানববন্ধন শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর অভিযুক্ত আবুল কালামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
তিনি জানান, ইমরান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :