
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় চারগুণ বন্দি অবস্থান করায় সেখানে তীব্র আবাসন সংকট ও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারাগারের নির্ধারিত মালামাল রাখার স্থান এমনকি ঘরগুলোর বাইরের বারান্দাতেও গাদাগাদি করে বন্দিদের রাখতে হচ্ছে, তবুও সমস্যার সমাধান মিলছে না।
কারা সূত্র জানায়, ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে মোট ৩৮২ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেখানে বন্দির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২০০। অর্থাৎ, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় সাড়ে আটশো বন্দি বেশি অবস্থান করছেন। অপর্যাপ্ত জায়গার কারণে বন্দিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কারাগারে বন্দির সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার ছয়টি উপজেলার মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে সামারি পাওয়ারে ৩, ৬ ও ১২ মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের আপিল ও জামিন না হওয়া এবং বিভিন্ন বিশেষ অভিযানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের কারণে বন্দির এই ভিড় তৈরি হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক চাপ পড়েছে। অতিরিক্ত বন্দি থাকায় ঘুমানোর জায়গা ও ব্যক্তিগত পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শৌচাগার, গোসলখানা ও সুপেয় পানির সরবরাহের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে সীমিত জনবল নিয়ে দিনরাত বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কারারক্ষীরাও। বিপুলসংখ্যক বন্দির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কারা কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও জেলার স্বপন কুমার ঘোষ জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৮২ জন হলেও বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২০০ বন্দি রয়েছেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দি থাকায় ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এতকিছুর পরেও নিয়মানুযায়ী বন্দিদের খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাগারের এই অতিরিক্ত চাপ কমাতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :