
সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও টানা কয়েক মাস মাঠজুড়ে জমে থাকে পানি। বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠ পানির নিচে থাকায় খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও স্বাভাবিক কার্যক্রমেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
এমন করুণ চিত্র দেখা গেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ১২৫ নম্বর চন্দ্রপাড়া সর্দার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির মোট জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমি মাটি বা বালু দিয়ে ভরাট করা প্রয়োজন। মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন অংশে পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে এবং মৌসুম শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় মাঠটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় মাঠে মশার উপদ্রবও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও নিত্যদিনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একসময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১৫ জনে।
বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তাহিদা বেগম বলেন, ‘‘মাঠটি নিচু হওয়ায় হালকা বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় মাঠ পানির নিচে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হতো।’’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন তাকে আশ্বস্ত করেছে এবং শিগগিরই বিদ্যালয়ের মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ‘‘জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের চলাচলে যে সমস্যা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি অবগত আছি। সামর্থ্যের মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হবে।’’
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মাটি দিয়ে মাঠটি উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল, খেলাধুলা ও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ পুনরায় ফিরে আসে।
আপনার মতামত লিখুন :