
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ১৫ মিটার দীর্ঘ একটি নবনির্মিত সেতুর কাজ শেষ হওয়ার এক মাস না যেতেই এর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের সময় যথাযথ তদারকি না থাকায় এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঝাউগড়া গ্রামের একটি নালার ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৫ লাখ ১৩ হাজার ১৪৫ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করে ‘মেসার্স পল্লী সোনালী এগ্রো’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের জুন মাসে কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বিলও উত্তোলন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের মাটি ও ইট সরে গিয়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এছাড়া পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কেও মাটি সরে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সেতুটির ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কোনোমতে পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘‘কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই সড়ক ধসে গেছে। নির্মাণকাজে অনিয়ম ও ফাঁকফোকর থাকার কারণেই অল্পতেই এমন বেহাল দশা হয়েছে।’’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, সেতুটি নির্মাণের সময় রাতের আঁধারেও ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। সে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো তদারকি কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীকে উপস্থিত দেখা যায়নি।
তবে কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স পল্লী সোনালী এগ্রো’র মালিক মো. বিপুল দাবি করেন, ‘‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সংযোগ সড়কের মাটি ধসে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নিজ দায়িত্বে সড়কটি পুনরায় সংস্কার করে দেওয়া হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি করা হয়নি।’’
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, ‘‘সেতু নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
আপনার মতামত লিখুন :