
চলতি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার পেনাল্টি পাওয়া কিংবা টাইব্রেকার ভাগ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোল ও মিম বানিয়ে খোঁচা দেওয়া যেন ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, নিজেদের নকআউট ম্যাচে সেই পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়েই বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের! আর্লিং হালান্ডের দানবীয় পারফরম্যান্সে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় মহাকাব্য লিখে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। আর তাতেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়ে এখন উল্টো ট্রোলের মুখে পড়েছে সেলেসাওরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। চতুর্থ মিনিটেই আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়েছিলেন নরওয়ের প্যাটট্রিক বার্গ, তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ম্যাচের দশম মিনিটে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলের সামনে। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করা হলে ভিএআরের (VAR) সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু আর্জেন্টিনার পেনাল্টি নিয়ে ট্রোল করা ব্রাজিলের ব্রুনো গুইমারেস নিজেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন; তার নেওয়া শটটি বীরত্ব দেখিয়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক দুর্দান্ত আক্রমণ করেও নরওয়েজিয়ান প্রাচীর ভাঙতে পারছিল না কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধে কুনহা-মার্তিনেল্লির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, দ্বিতীয়র্র্ধের ৫৮তম মিনিটে বদলি নেমে ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এন্দ্রিক। ৬২তম মিনিটে রায়ানের শট এবং গুইমারেসের পরের আক্রমণও নস্যাৎ করেন নরওয়ে কিপার নাইল্যান্ড। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ইনজুরি কাটিয়ে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র মাঠে নামলে সমর্থকরা আশার আলো বুক বাঁধেন।
তবে ম্যাচের শেষভাগের গল্পটা ছিল শুধুই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ডের। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ব্রাজিলের আক্রমণ সামলে নেওয়ার পর, ৭৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে আলিসনকে পরাস্ত করে নরওয়েকে ১-০ তে এগিয়ে নেন হালান্ড। এখানেই থামেননি এই গোলমেশিন; ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন মাটির মিশিয়ে দেন তিনি।
যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান ২-১ করলেও তা ব্রাজিলের বিদায় আটকাতে পারেনি। একদিকে পেনাল্টি মিসের মহড়া, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নিয়ে ট্রোল করার অহংকার—সব মিলিয়ে মাঠের ব্যর্থতায় ব্রাজিলের এই ট্র্যাজিক বিদায় এখন ফুটবল বিশ্বে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলেসাওদের এনে দিয়েছে চরম উপহাসের খোরাক।
আপনার মতামত লিখুন :