
২০১৪ সালের ঘরের মাঠে সেই ‘৭ আপ’ (১-৭ গোলের হার) ট্রোলের ক্ষত এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। তবে এবার প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকেই জার্মানি বিদায় নেওয়ায় যেন মধুর এক স্বস্তি পেল ব্রাজিল। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই আকস্মিক বিদায়ে অন্তত আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের একক শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা নিশ্চিত হলো সেলেসাওদের।
২০০২ সালে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ব্রাজিল। চলমান ২০২৬ আসরে ব্রাজিলের সেই অনন্য রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ ছিল কেবল জার্মানির সামনেই। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার শিরোপা জিততে পারলে ব্রাজিলের পাঁচ বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তিতে সমতা আনতে পারতো।
কিন্তু প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ডাইমানশাফটদের বিদায়ে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ফলে আরও অন্তত একটি বিশ্বকাপ চক্র (২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত) বিশ্বের একমাত্র ‘পেন্টা’ জয়ী দল হিসেবেই একক রাজত্ব করবে ব্রাজিল। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ধরে রাখা এই অনন্য রেকর্ডে আপাতত আর কেউ ভাগ বসাতে পারছে না।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক শিরোপাজয়ী দলের তালিকায় ব্রাজিলের পরেই রয়েছে জার্মানি ও ইতালি, যাদের সংগ্রহে আছে চারটি করে বিশ্বকাপ। এছাড়া আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের সংগ্রহে রয়েছে তিনটি করে শিরোপা। এবার ইতালি বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়ায় এবং জার্মানি আগেভাগেই বাদ পড়ায় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আপাতত ধরাছোঁয়ার বাইরেই রইল ব্রাজিল।
এদিকে জাপানকে হারিয়ে ইতিমধ্যেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ‘৭ আপ’ দেওয়া জার্মানির বিদায়ে মানসিকভাবে ফুরফুরে থাকা ব্রাজিলের লক্ষ্য এখন একটাই— হেক্সা মিশন সফল করা, অর্থাৎ পাঁচ তারকার জার্সিতে ষষ্ঠ তারাটি যোগ করা।
আপনার মতামত লিখুন :