মুক্ত স্বদেশ সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক নকিপুর জমিদার বাড়ি ধ্বংসের পথে, সংরক্ষণের দাবি | মুক্ত স্বদেশ

সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক নকিপুর জমিদার বাড়ি ধ্বংসের পথে, সংরক্ষণের দাবি


নিউজ ডেস্ক অক্টোবর ১২, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক নকিপুর জমিদার বাড়ি ধ্বংসের পথে, সংরক্ষণের দাবি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহাসিক নকিপুর জমিদার বাড়ি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই অনন্য স্থাপত্যশৈলী কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সংরক্ষণের অভাবে দিন দিন জরাজীর্ণ ও ভুতুড়ে স্থাপনায় পরিণত হচ্ছে।

শ্যামনগর এলাকাটি বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম মহারাজ প্রতাপাদিত্যের স্মৃতিবিজড়িত। জমিদার হরিচরণ রায় বাহাদুরের প্রভাবশালী শাসনের সময় নির্মিত নকিপুর জমিদার বাড়িটি একসময় এলাকার গৌরবময় প্রতীক ছিল। ১৮৮৮ সালে নির্মিত তিনতলা বিশিষ্ট বিশাল এই ইমারতটি এখন প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। জানালা-দরজা উধাও হয়ে গেছে, দেওয়ালে জন্ম নিয়েছে বড় বড় বটগাছ এবং ইট খসে খসে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় প্রজারা এই জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় জুতা খুলে সম্মান জানাত। অথচ আজ সেই বাড়িটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। জমিদার হরিচরণ রায় বাহাদুর শুধু শাসকই ছিলেন না, তিনি জনহিতকর বহু কাজ করেছেন। তাঁর উদ্যোগে নকিপুর মাইনর স্কুল (বর্তমানে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়), রাস্তা, খাল ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়। জমিদারবাড়ি সংলগ্ন দুর্গামণ্ডপ, নহবতখানা, শিবমন্দির ও পুকুরঘাট এখনো তাঁর অতীত ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে। সাড়ে তিন বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ভবনের নকশা ও নির্মাণশৈলী ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

এতে ছিল শক্তিশালী সিংহদ্বার, প্রশস্ত বারান্দা, ভূগর্ভস্থ কক্ষ, সুদৃশ্য পুকুর এবং কারুকাজ খচিত কাঠের আসবাব। ১৯৫৪ সালে জমিদার পরিবার ভারতে পাড়ি জমানোর পর থেকেই এই স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ রয়েছে। সরকারিভাবে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও কার্যত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সঠিক সংরক্ষণ ছাড়া নকিপুর জমিদার বাড়ির এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।