মুক্ত স্বদেশ নেছারাবাদে মনসা পূজাকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রতিমা বিক্রি, কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে | মুক্ত স্বদেশ

নেছারাবাদে মনসা পূজাকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রতিমা বিক্রি, কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে


নিউজ ডেস্ক অগাস্ট ১৭, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ন
নেছারাবাদে মনসা পূজাকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রতিমা বিক্রি, কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজা উপলক্ষে পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠী) জমে উঠেছে প্রতিমা বিক্রির আয়োজন। পূজা ঘিরে উপজেলার হাটে-বাজারে প্রতিমা কেনাবেচায় ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচার অনুযায়ী, বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব ও সর্পভীতি থেকে রক্ষা পেতে এবং পরিবার-পরিজনের কল্যাণ কামনায় প্রতি বছর শ্রাবণ সংক্রান্তি বা ভাদ্র মাসের শুরুতে দেবী মনসার আরাধনা করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

পূজা উপলক্ষে উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা, শশীদ, মিয়ারহাট ও জগন্নাথকাঠি বন্দর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বসেছে প্রতিমার অস্থায়ী হাট। এসব হাটে ভক্তদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন আকার ও নকশার প্রতিমা থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন কারিগররা। আকার ও কারুকাজভেদে প্রতিমা ১৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

মিয়ারহাট বাজারের প্রতিমা কারিগর উত্তম বড়াল জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। পূজার সময় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি প্রতিমা বিক্রি হয়। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে পছন্দমতো প্রতিমা কিনে নিচ্ছেন।

মিয়ারহাট বিশ্বাস বাড়ি মন্দিরের পূজারী শ্যামল মজুমদার বলেন, “মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সওদাগর, বেহুলা ও লখিন্দরের কাহিনীর সঙ্গে দেবী মনসার ঐতিহ্য গভীরভাবে যুক্ত। ভক্তরা সর্পদেবী হিসেবে মনসা দেবীকে মান্য করে পরিবারের মঙ্গলে পূজা দেন।”

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মিলন মিস্ত্রী জানান, মনসা পূজা এ অঞ্চলের প্রাচীন ধর্মীয় ও লোকজ সংস্কৃতি। প্রতি বছরের মতো এবারও সব সম্প্রদায়ের সম্প্রীতিতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।