মুক্ত স্বদেশ শ্রীপুরে কাঁঠাল থেকে বিস্কুট: দেশীয় ফলে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা | মুক্ত স্বদেশ

শ্রীপুরে কাঁঠাল থেকে বিস্কুট: দেশীয় ফলে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা


নিউজ ডেস্ক অগাস্ট ৬, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ন
শ্রীপুরে কাঁঠাল থেকে বিস্কুট: দেশীয় ফলে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

জহির রায়হান, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

জাতীয় ফল কাঁঠালের মৌসুমী অপচয় রোধ এবং এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এক অভিনব বিপ্লব ঘটিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার। অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করে তিনি তৈরি করছেন সুস্বাদু ও গুণগত মানসম্পন্ন বিস্কুট। পরীক্ষামূলক শুরুতেই বাজারে ভোক্তাদের বিপুল সাড়া মেলায় দেশের ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্পে উন্মোচিত হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালা গ্রামে অবস্থিত ‘মোহতাহিনা ফুড’ কারখানায় চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই বিস্কুট উৎপাদন শুরু হয়। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে তৈরি করা এই বিস্কুট বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিস্কুট তৈরির নেপথ্য কথা জানাতে গিয়ে উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় ফলের সঠিক ব্যবহার নিয়ে ভাবছিলাম। গত বছর চীন সফরে গিয়ে সেখানে কাঁঠালের তৈরি নানা বৈচিত্র্যময় খাদ্যপণ্য দেখে মুগ্ধ হই। দেশে ফিরে উপলব্ধি করি, সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে প্রতিবছর আমাদের বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল স্রেফ পচে নষ্ট হয়। সেই চিন্তা থেকেই কাঁঠালকে নতুন আঙ্গিকে বাজারজাত করার উদ্যোগ নিই।”

প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে জানা যায়, এই বিশেষ বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ খাঁটি কাঁঠালের পাল্প মিশ্রিত করা হয়। কৃত্রিম স্বাদের বদলে আসল কাঁঠালের পুষ্টি, প্রাকৃতিক স্বাদ ও মনকাড়া সুগন্ধ অক্ষুণ্ণ থাকায় সাধারণ বিস্কুটের চেয়ে এটি গ্রাহকদের কাছে দ্রুত আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি রুচিসম্মত প্যাকেট বাজারজাত করা হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। ক্রেতাদের চমৎকার সাড়ার ওপর ভিত্তি করে আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও নিত্যনতুন খাদ্যপণ্য তৈরির বড় পরিকল্পনা রয়েছে কারখানাজুড়ে

কৃষি খাত ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, “ফলের বহুমুখী ব্যবহার ও মূল্য সংযোজন (Value Addition) কৃষকের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় মূল ভূমিকা রাখে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলভিত্তিক শিল্পের বিকাশে এই উদ্যোগ উদাহরণ হতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের সব ধরনের কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কাঁঠাল কেন্দ্রিক এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে একদিকে যেমন মৌসুমী ফলের অপচয় শূন্যে নেমে আসবে, অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্পে নতুন কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সহজ হবে।