
পঞ্চগড় জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের বহুল প্রত্যাশিত দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি অবশেষে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে অবসান হতে চলেছে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের। প্রায় ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই সেতুটি পঞ্চগড়ের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
জানা গেছে, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে নির্মাণ হতে যাচ্ছে এই সেতুটি। পঞ্চগড় সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ভজনপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে আড়াই কিলোমিটার পশ্চিমে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় এলাকার করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত হবে ২৪৮.৪৪ মিটার দীর্ঘ এই সেতু। কারিগরি কারণে সেতুটির ডিজাইন করা হয়েছে ‘স্টিলের নেটওয়ার্ক আর্চ’ হিসেবে। সেতু নির্মাণ ছাড়াও প্রাক্কলিত এই ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে দুই পাড়ে নদী শাসন, মাটি ভরাট ও ভূমি অধিগ্রহণ। পরিকল্পনা বিভাগের গত ৫ অক্টোবরের একনেক সভার নোটিশে প্রকল্পটির নাম ও বাস্তবায়নের সময়কাল (অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০) উল্লেখ করা হয়েছে।
সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পাশাপাশি ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা গোলচত্বর পর্যন্ত ১৭.৪০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের জন্য একটি ডিপিপি তৈরির কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ছয় শ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেতু ও সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০৩০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে আমদানিকৃত ও রপ্তানিকৃত পণ্যবাহী যানবাহন, তেঁতুলিয়া থেকে বালি ও পাথরবাহী ট্রাক, রেলওয়ে স্লিপারসহ বিভিন্ন ভারী মালবাহী ট্রাক আর পঞ্চগড় শহরের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হবে না। বিকল্প এই সেতু ব্যবহার করে এসব যানবাহন সরাসরি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে পারবে। এর ফলে একদিকে যেমন শহরের যানজট কমবে, অন্যদিকে পঞ্চগড়ের চা, পাথর ও কৃষিপণ্য দ্রুত এবং কম খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো সম্ভব হবে; যা স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) পঞ্চগড়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার আলী বলেন, ‘২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা দূর হবে এবং সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।’
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ বলেন, ‘পঞ্চগড়বাসীর এই অর্জন সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে একটি বিরাট মাইলফলক। এতে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন এবং দেশের সার্বিক লজিস্টিক চেইন আরও শক্তিশালী হবে।’
আপনার মতামত লিখুন :