
যশোর শহরের ব্যস্ত সড়ক ও ফুটপাতে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায় মিলছে লেবু, তোকমা ও ফলের শরবত। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রমে জড়িত মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে কম দামের এই পানীয় জনপ্রিয় হলেও এর তৈরি প্রক্রিয়া, দূষিত পানি ও বরফের ব্যবহারে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সরেজমিনে যশোর শহরের দড়াটানা, হাসপাতাল মোড়, মনিহার, পালবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উন্মুক্ত অবস্থায় তৈরি হচ্ছে এসব শরবত। রাস্তার ধুলোবালি ও যানবাহনের ধোঁয়ার মধ্যেই রাখা হচ্ছে উপকরণগুলো। তাছাড়া একই পানিতে বারবার গ্লাস ধোয়া এবং সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হিসেবে—মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনে ব্যবহৃত অখাদ্য বরফ শরবতে মেশানো হচ্ছে। বরফ কলের কর্মীরা স্পষ্ট জানান, তারা পানীয়ের উপযোগী বরফ তৈরি করেন না, মূলত মাছ ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মিত বরফই শরবত বিক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন। বিক্রেতারাও স্বীকার করছেন, আলাদা খাবার বরফ চেনার উপায় না থাকায় তারা বাজার থেকে সহজলভ্য বরফই ব্যবহার করছেন।
চিকিৎসকদের মতে, সস্তা মূল্যের এই অসচেতনতা জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা. সেলিম রেজা ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, মাছের বরফ ও দূষিত পানি থেকে তৈরি শরবত পান করলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড এবং জন্ডিসের মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ১০ টাকার শরবত খেয়ে অসুস্থ হলে পরবর্তীতে চিকিৎসার পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়, যা নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদুজ্জামান মিঠু এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল জানান, নাগরিকদের নিরাপদ পানীয় নিশ্চিত করা জরুরি। অখাদ্য বরফ ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বন্ধে প্রশাসনকে অবিলম্বে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :